শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

রেকর্ড গড়ে দেশের নেতৃত্বে তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির ইতিহাসটা দেখলে একটা ধারাবাহিক ওঠানামা স্পষ্ট দেখা যায়।

দলটি গঠনের পর ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিয়াউর রহমান–এর নেতৃত্বে বিএনপি প্রথম অংশ নেয় এবং ২২০টি আসনে জয় পায়। এরপর খালেদা জিয়া–এর নেতৃত্বে ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি ১৪০টি আসনে জয়ী হয়। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ নির্বাচনে বিএনপি ২৮৭টি আসন পেলেও ওই নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ছিল। একই বছরের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা ১১৬টি আসন পায়। আর ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩টি আসনে জয়লাভ করে।

এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের নেতৃত্বে ছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ এবং দলীয় পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে তাঁর নেতৃত্বে দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে—এটি নিঃসন্দেহে বড় রাজনৈতিক ঘটনা। দুইটি আসনে (ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই জয় তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থানকে আরও শক্ত করেছে।

এখানে একটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—বিএনপির রাজনীতিতে পারিবারিক ধারাবাহিকতা যেমন আছে, তেমনি আছে প্রতিবার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা। তারেক রহমানের ক্ষেত্রে তা আরও স্পষ্ট। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার, কারাবাস, পরে লন্ডনে চিকিৎসা—সব মিলিয়ে দীর্ঘ সময় সরাসরি দেশের রাজনীতির বাইরে থেকেও দলকে সংগঠিত রাখা সহজ ছিল না।

দলীয় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কঠোর অবস্থান, সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ—এসব তাঁর নেতৃত্বের অংশ হিসেবে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে ৩১ দফা পরিকল্পনা, বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কার্ডের প্রস্তাব, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক ভাবনা—এসবকে সামনে রেখে তিনি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন।

তবে রাজনীতিতে চূড়ান্ত মূল্যায়ন হয় সময়ের বিচারে। নির্বাচনী বিজয় এক বিষয়, আর রাষ্ট্র পরিচালনায় অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করা আরেক বিষয়। সামনে চ্যালেঞ্জ থাকবে—দলীয় ঐক্য ধরে রাখা, বিরোধী মতের সঙ্গে সহনশীল আচরণ করা, এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বিএনপির ইতিহাসে এটি একটি বড় অধ্যায়। এখন দেখার বিষয়—এই বিজয়কে কতটা কার্যকর রাষ্ট্রনীতিতে রূপ দেওয়া যায়।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: