সর্বশেষ

শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ, শাহবাগে অবস্থান করছে পুলিশ

আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ, শাহবাগে অবস্থান করছে পুলিশ


 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার দাবিতে চলমান আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনরতদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত কর্মসূচিতে সেখানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় পুলিশ। বর্তমানে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ শাহবাগ থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং আন্দোলনকারীরা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে দুপুরের পর শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে পদযাত্রা শুরু করেন। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে।

পরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান নিয়ে যমুনা অভিমুখে যাত্রার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে তারা ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে যমুনার উদ্দেশে অগ্রসর হলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ আবারও জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়া আন্দোলনকারীদের একটি অংশ বাংলামোটর মোড়ে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানেও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে বলে জানানো হয়।

সোশ্যাল মিডিয়াকে ডাস্টবিন মনে হয়

সোশ্যাল মিডিয়াকে ডাস্টবিন মনে হয়


দুই বাংলার চলচ্চিত্র অঙ্গনে জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। চলতি বছরে ওপার বাংলায় মুক্তির অপেক্ষায় থাকা তার নতুন সিনেমা ওসিডি নিয়ে ইতোমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

এই সিনেমায় জয়া আহসান অভিনয় করেছেন একজন চিকিৎসকের চরিত্রে। ছবিটির মূল উপজীব্য অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার (ওসিডি) এবং শিশু যৌন নির্যাতন বা পিডোফিলিয়ার মতো সংবেদনশীল সামাজিক বাস্তবতা। পরিচালক সৌকর্য ঘোষালের সঙ্গে এটি জয়ার তৃতীয় কাজ।

সম্প্রতি ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিনেমার গল্প ও এর সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলেন জয়া আহসান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাংলা সিনেমায় আগে ওসিডি বা পিডোফিলিয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে তেমন গুরুত্ব দিয়ে কাজ হয়নি।

জয়া জানান, শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে সমাজকে আরও সচেতন হওয়া জরুরি। তার ভাষায়, শিশুদের মাধ্যমে যৌন আনন্দ লাভের প্রবণতা একটি মারাত্মক মানসিক ব্যাধি, যা ভুক্তভোগীদের শৈশব ও পরবর্তী জীবনে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী ট্রমা সৃষ্টি করে।

সিনেমার আলোচনার পাশাপাশি সাক্ষাৎকারে উঠে আসে দুই বাংলার চলচ্চিত্র শিল্প ও শিল্পীদের কাজ নিয়েও নানা প্রসঙ্গ। দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়া বলেন, শিল্প কখনো বিভাজন তৈরি করে না, বরং মানুষকে কাছাকাছি আনে।

তিনি বলেন, একজন শিল্পী যখন নিজের শিল্প নিয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকে, তখন তাকে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রয়োজন পড়ে না। তার লক্ষ্য কেবল কাজের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানো। জয়া আরও বলেন, তিনি শুধু বাংলাদেশের বা পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের জন্য নয়, বরং বিশ্বের যেখানেই বাঙালি আছে—সবার জন্য কাজ করতে চান। এমনকি মধ্যপ্রাচ্য বা পাকিস্তানে বসবাসরত বাঙালিদের কাছেও পৌঁছাতে চান একজন বাঙালি শিল্পী হিসেবে।

তবে দুই দেশের সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে যে বিদ্বেষ দেখা যায়, সেটিকে সাময়িক বলেই মনে করেন জয়া আহসান। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নেতিবাচকতা বাস্তবতার প্রতিফলন নয়।

এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, গুটিকয়েক মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে বিদ্বেষ ছড়ায়। বাস্তবে তিনি যেই ভালোবাসা পাচ্ছেন—ছবির মুক্তি, দর্শকদের ইতিবাচক মন্তব্য—সেটাই আসল। এই বিদ্বেষমূলক আচরণকারীরা দুই পাশেই আছে এবং তারাই মূলত বাকযুদ্ধ তৈরি করে।

সবশেষে জয়া আহসান বলেন, একজন শিল্পী হিসেবে এসব সাময়িক বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে থেকে তিনি সারা বিশ্বের বাঙালিদের জন্য কাজ করে যেতে চান, আর এই নেতিবাচকতা তার সৃজনশীল যাত্রায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।

কাশ্মীরিদের পূর্ণস্বাধীনতা অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চায় পাকিস্তান

কাশ্মীরিদের পূর্ণস্বাধীনতা অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চায় পাকিস্তান



রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা রেডিও পাকিস্তানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা ভারতের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করে। তাদের মতে, কাশ্মীরি জনগণকে নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বাধীনভাবে নির্ধারণের সুযোগ না দিলে ওই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

বুধবার কাশ্মীর সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার ও আকাঙ্ক্ষা দমন করে কোনোভাবেই টেকসই শান্তি অর্জন করা যায় না।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের সরকার ও জনগণ প্রতিবছর কাশ্মীর সংহতি দিবস পালন করে কাশ্মীরি জনগণের ন্যায্য ও বৈধ আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি তাদের দৃঢ় ও অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে থাকে।

শেহবাজ শরিফ আরও বলেন, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক নীতি। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ প্রতিবছর এমন প্রস্তাব গ্রহণ করে, যেখানে জনগণের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের আইনগত অধিকারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় ৭৮ বছর পেরিয়ে গেলেও কাশ্মীরি জনগণ এখনো তাদের এই ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নের সুযোগ পায়নি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ভারত-অবৈধভাবে অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর (আইআইওজেকে) বিশ্বের অন্যতম সর্বাধিক সামরিকীকৃত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে, যেখানে কাশ্মীরিরা ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যু পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ—এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে শেহবাজ শরিফ বলেন, কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান তাদের প্রতি নৈতিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

এদিকে রেডিও পাকিস্তানের খবরে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি মন্তব্য করেছেন, কাশ্মীর সংহতি দিবস বিশ্ববাসীকে নিপীড়িত কাশ্মীরি জনগণের প্রতি তাদের নৈতিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের উচিত ৭৮ বছর আগে কাশ্মীরি জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের সংগ্রামে কার্যকর সমর্থন জানানো।

দেশজুড়ে সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার ৩৬৮

দেশজুড়ে সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার ৩৬৮



দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে রাজধানীসহ সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গত ৩০ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলমান যৌথ অভিযানে সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও ডাকাতসহ মোট ৩৬৮ জন সন্দেহভাজন অপরাধীকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

আইএসপিআর জানায়, অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৫১টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ১৩১ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, ককটেল বোমা, দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণেও সেনাবাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। দেশের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

এছাড়া যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হলে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আইএসপিআর।

তারেক রহমানকে ফের ওপেন ডিবেটের আমন্ত্রণ জামায়াত আমিরের

তারেক রহমানকে ফের ওপেন ডিবেটের আমন্ত্রণ জামায়াত আমিরের



বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উন্মুক্ত বিতর্ক বা পাবলিক প্ল্যাটফর্মে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি প্রস্তাব দেন, এমন একটি আলোচনায় উভয় দল জাতির সামনে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপন করবে, যাতে জনগণ সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পায়।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই আমন্ত্রণের কথা জানান জামায়াত আমির।

পোস্টে তারেক রহমানকে ‘প্রিয়’ ও ‘মাননীয়’ সম্বোধন করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই একটি সরকারের বৈধতা প্রতিষ্ঠিত হয়। ন্যায্যতা ও জনগণের আস্থা ছাড়া কোনো নির্বাচনী ফলই প্রকৃত গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব হলো তরুণ প্রজন্মকে দেখানো যে রাজনীতি সভ্য, সহনশীল ও অহিংস হতে পারে। এজন্য তিনি গণমাধ্যম ও জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার মানদণ্ড নির্ধারণের আহ্বান জানান—যা হবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সমালোচনার জন্য উন্মুক্ত।

জামায়াত আমির বলেন, বিএনপি ইতোমধ্যে তাদের রাজনৈতিক পরিকল্পনা উপস্থাপন শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি তারেক রহমানকে একটি সরাসরি ও উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান, যেখানে উভয় দল নিজ নিজ ইশতেহার তুলে ধরবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার জনগণের হাতেই থাকবে।

পোস্টের শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার সময় এসেছে—যেখানে সবাই জনগণের মতামত ও ইচ্ছাকে সম্মান করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।

৪ কোটি গৃহিণীকে ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই: তারেক রহমান

৪ কোটি গৃহিণীকে ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই: তারেক রহমান



বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রায় ৪ কোটি গৃহিণীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৬ উপস্থাপনকালে এসব প্রতিশ্রুতির কথা জানান তিনি।

ফ্যামিলি কার্ডের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এই সহায়তা একজন নারীর জন্য সাহস ও আত্মবিশ্বাসের উৎস হবে। প্রাপ্ত অর্থ তিনি তার সন্তানের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় করতে পারবেন। পরবর্তীতে চাইলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র বিনিয়োগের মাধ্যমেও অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগের ফলে ধীরে ধীরে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং আগামী সাত বছরের মধ্যে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তারেক রহমান বলেন, নারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই দেশকে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নেওয়াই বিএনপির মূল লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর করবে বিএনপি

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর করবে বিএনপি

 


বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ভবিষ্যতে যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তিনি টানা ১০ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন করা হবে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দলের ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশতেহার ঘোষণাকালে তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ একটি জাতীয় দায়িত্ব এবং এটি নিরপেক্ষভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি। বিএনপি সরকারে গেলে সব পক্ষকে নিয়ে এই দায়িত্ব পালনে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং গত ১৫ বছরে গুম ও হত্যার শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। আন্দোলনে শহীদ ও গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে নিজ নিজ এলাকায় রাস্তা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সংবিধানে “আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। একই সঙ্গে ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং ১৯৯০ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার নতুন ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে বলে দাবি করা হয়।

নারীর কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, পোশাক শিল্পে প্রায় ৭০ শতাংশ নারী শ্রমিক কাজ করেন। গার্মেন্টসের বাইরেও নারীদের জন্য নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করা হবে। নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর পরিবর্তে ডে-কেয়ার ও ব্রেস্ট ফিডিং সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

কৃষকদের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষক কার্ড চালু করা হলে তা তাদের জন্য শক্তিশালী সহায়তা হবে। এছাড়া ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।