ঘুম শুধু শরীরকে বিশ্রাম দেয় না, এটি আমাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। তবে ব্যস্ত জীবনধারা, রাত জাগা, স্ক্রিনের দীর্ঘ সময় ব্যবহার এবং চাপজনিত কারণে মানসম্মত ঘুম অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। কম ঘুম কেবল ক্লান্তি নয়, এটি স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, মেজাজ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ঘুমের খারাপ মানের লক্ষণ
সকালে মাথাব্যথা: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়।
মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি দুর্বল: তথ্য প্রক্রিয়াকরণে সমস্যা, ছোটখাটো ভুল।
অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ: ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া।
মেজাজ পরিবর্তন ও খিটখিটে ভাব: রাগ, উদ্বেগ বা অস্থিরতা বৃদ্ধি।
ত্বকের জৌলুস কমে যাওয়া: শুষ্ক ও নিস্তেজ ত্বক, অকাল বলিরেখা।
চাপ সামলানোর ক্ষমতা কমে যাওয়া: ছোট সমস্যাও বড় মনে হওয়া।
পর্যাপ্ত সময় ঘুমিয়েও ক্লান্ত লাগা: গভীর ঘুমের অভাব বা ঘুমের ধাপে সমস্যা।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস: সংক্রমণে ঝুঁকি বৃদ্ধি।
হজমজনিত সমস্যা: গ্যাস্ট্রিক, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি।
ভালো ঘুমের জন্য পরামর্শ
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো।
ঘুমের কয়েক ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন বা ভারী খাবার এড়ানো।
ঘর অন্ধকার, শান্ত ও আরামদায়ক রাখা।
ঘুমের এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমানো।
ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা রিল্যাক্সেশন অনুশীলন।
দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
মনে রাখবেন: ভালো ঘুম শুধু আরাম নয়, এটি সুস্থ জীবনযাপনের ভিত্তি। ছোট লক্ষণগুলো অবহেলা না করে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।


0 coment rios: