শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কাশ্মীরিদের পূর্ণস্বাধীনতা অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চায় পাকিস্তান



রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা রেডিও পাকিস্তানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা ভারতের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করে। তাদের মতে, কাশ্মীরি জনগণকে নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বাধীনভাবে নির্ধারণের সুযোগ না দিলে ওই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

বুধবার কাশ্মীর সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার ও আকাঙ্ক্ষা দমন করে কোনোভাবেই টেকসই শান্তি অর্জন করা যায় না।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের সরকার ও জনগণ প্রতিবছর কাশ্মীর সংহতি দিবস পালন করে কাশ্মীরি জনগণের ন্যায্য ও বৈধ আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি তাদের দৃঢ় ও অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে থাকে।

শেহবাজ শরিফ আরও বলেন, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক নীতি। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ প্রতিবছর এমন প্রস্তাব গ্রহণ করে, যেখানে জনগণের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের আইনগত অধিকারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় ৭৮ বছর পেরিয়ে গেলেও কাশ্মীরি জনগণ এখনো তাদের এই ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নের সুযোগ পায়নি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ভারত-অবৈধভাবে অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর (আইআইওজেকে) বিশ্বের অন্যতম সর্বাধিক সামরিকীকৃত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে, যেখানে কাশ্মীরিরা ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যু পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ—এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে শেহবাজ শরিফ বলেন, কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান তাদের প্রতি নৈতিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

এদিকে রেডিও পাকিস্তানের খবরে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি মন্তব্য করেছেন, কাশ্মীর সংহতি দিবস বিশ্ববাসীকে নিপীড়িত কাশ্মীরি জনগণের প্রতি তাদের নৈতিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের উচিত ৭৮ বছর আগে কাশ্মীরি জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের সংগ্রামে কার্যকর সমর্থন জানানো।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: