রায়া শারমিলা ইসলাম রাফতি—নামটির মধ্যেই আছে এক ধরনের কোমলতা, আর তার পথচলায় রয়েছে পরিশ্রম, স্বপ্ন আর আত্মবিশ্বাসের মিশেল। পরিবার, বন্ধু কিংবা মিডিয়া—সবখানেই তিনি ‘রায়া’ বা ‘রাফতি’ নামে পরিচিত। তবে তার সবচেয়ে বড় পরিচয়, তিনি একজন উদীয়মান কণ্ঠশিল্পী, যার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু সঙ্গীত।
২০১৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত সংগীত প্রতিযোগিতায় আধুনিক গানে প্রথম স্থান অর্জনের মধ্য দিয়ে তার যাত্রা শুরু। এরপর ২০১৫ সালে চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ক্ষুদে গানরাজ’-এ প্রথম রানারআপ হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। ২০১৭ সালে জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতায় নজরুল সংগীতে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে স্বর্ণপদক অর্জন তার সাফল্যের তালিকায় যোগ করে নতুন মাত্রা।
শিক্ষাজীবনেও রাফতি ছিলেন সমান উজ্জ্বল। বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষায় বৃত্তি, এসএসসি ও এইচএসসি-তে জিপিএ-৫ অর্জন—সব মিলিয়ে একাধারে মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন। বর্তমানে তিনি –এ ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যয়ন করছেন।
ছোটবেলা থেকেই গান, নাচ ও চারুকলায় আগ্রহ থাকলেও পড়াশোনার ব্যস্ততায় কিছুটা বিরতি ছিল সংগীতে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর আবার নতুন করে মন দিয়েছেন গানে। সম্প্রতি –এর সঙ্গে তার গাওয়া মৌলিক গান “ভালোবাসি কও” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাড়া ফেলেছে। সামনে আসছে নতুন গান “মন মানে না”, যেখানে থাকছেন ।
গানের পাশাপাশি অভিনয়ের প্রতিও আগ্রহ রয়েছে তার। ইতোমধ্যে বিভিন্ন টিভিসি ও নাটকে কাজের প্রস্তাব পেয়েছেন, তবে বেছে বেছে ভালো কাজ করতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ব্যক্তিজীবনে রাফতি প্রাণবন্ত, খোলামেলা এবং প্রতিবাদী। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, ছোট ছোট আনন্দ—এসবের মধ্যেই তিনি খুঁজে পান জীবনের রঙ। জীবনের পথে ভুল মানুষ চিনেছেন, আবার ঠিক সময়েই পেয়েছেন কিছু সত্যিকারের সহযাত্রী—যাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।
ভবিষ্যৎ নিয়ে তার ভাবনা স্পষ্ট—সঙ্গীতচর্চার পাশাপাশি বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসনে কাজ করতে চান। নিজের স্বপ্নপূরণের পথে সবার ভালোবাসা আর দোয়া নিয়েই এগিয়ে যেতে চান তিনি।
রাফতির কথায়, “সঙ্গীত আমার সাধনা, আমার অনুভূতি—আমি সারা জীবন এর সঙ্গেই থাকতে চাই।”







0 coment rios: