Global Header Bottom
১১ বছর একই চেয়ারে আলী আহমেদ, অভিযোগের পরও কেন নিশ্চুপ প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ?

১১ বছর একই চেয়ারে আলী আহমেদ, অভিযোগের পরও কেন নিশ্চুপ প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ?

১১ বছর একই চেয়ারে আলী আহমেদ, অভিযোগের পরও কেন নিশ্চুপ প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ?

জামালপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক আলী আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ ১১ বছর একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করায় তার প্রভাব ও কথিত সিন্ডিকেট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবার দ্রুত বদলির আশ্বাস দিয়েছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক। তবে বদলিই কি অভিযোগগুলোর সমাধান, নাকি প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা?

জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক আলী আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছেই। প্রায় ১১ বছর ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিনের এই অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে অফিসে গড়ে তুলেছেন প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট।

এর আগে তার বিরুদ্ধে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে পাঁচ শতাধিক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন, নিয়োগ, পদায়ন ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ তুলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগও করেছেন মাদারগঞ্জের চরপাকেরদহ ইউনিয়নের এক শিক্ষক।

অভিযোগের বিষয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান তদন্ত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এত অভিযোগের পরও কীভাবে একই কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন তিনি? কার প্রভাবে বারবার অভিযোগের পরও পার পেয়ে যাচ্ছেন?

এদিকে তার সম্পদের বিষয় নিয়েও আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালে জামালপুর শহরে প্রায় আট শতাংশ জমি কিনে সেখানে আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করেন তিনি। জমি ও বাড়ি নির্মাণে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ের কথাও সামনে এসেছে। তবে এ বিষয়ে আলী আহমেদের দাবি, নিজ বাড়ির জমি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ দিয়ে জামালপুরে জমি কিনেছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে আলী আহমেদ জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন থাকার বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

অন্যদিকে জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আহসান জানিয়েছেন, আলী আহমেদ ১১ বছর ধরে একই অফিসে রয়েছেন, এটি সত্য। তবে তার বিরুদ্ধে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি বলে দাবি করেন তিনি। কেউ তার নাম ব্যবহার করে টাকা নিয়ে থাকলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, তিন বছরের বেশি সময় কোনো কর্মস্থলে থাকলে নিয়মিতভাবেই বদলি করা হচ্ছে। যেহেতু আলী আহমেদ ১১ বছর ধরে একই কর্মস্থলে রয়েছেন, তাই তাকেও দ্রুত বদলি করা হবে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে আগে কিছু জানা ছিল না বলে জানান তিনি।

এখন প্রশ্ন, শুধু বদলি করেই কি শেষ হবে এত অভিযোগের তদন্ত? পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি, নিয়োগ, পদায়ন ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে কে? দীর্ঘদিন ধরে ওঠা এসব অভিযোগের পেছনের প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি বদলির আশ্বাসেই থেমে থাকবে সব আলোচনা? এখন সেই অপেক্ষায় জামালপুরের সচেতন মহল।

শেয়ার করুন:

এই ক্যাটাগরির আরও নিবন্ধ

Global Before Footer