মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইতালি। সংবিধানগত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে দেশটি জানিয়েছে, এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগে অংশ নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এতে নতুন করে ধাক্কা খেল আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগ।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি বার্তা সংস্থা আনসাকে বলেন, ইতালির সংবিধান ও বোর্ড অব পিসের সনদের মধ্যে মৌলিক আইনগত বিরোধ রয়েছে, যা অতিক্রম করা সম্ভব নয়। তবে শান্তি উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইতালি আগ্রহী থাকবে বলে জানান তিনি।
ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর কাতারে যোগ দিলেও তারাও এখনো এই বিতর্কিত বোর্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়নি। জাতিসংঘ গত বছর যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার জন্য একটি অন্তর্বর্তী শাসন কাঠামো হিসেবে বোর্ডটির অনুমোদন দিলেও, পরবর্তীতে সনদ সম্প্রসারণে গাজার নাম বাদ পড়ায় বিতর্ক আরও বেড়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী তায়ানি ইতালির সংবিধানের ১১ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা তুলে ধরেন। ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত না হলে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থায় ইতালি যোগ দিতে পারে না। বোর্ড অব পিসের সনদে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন চেয়ারম্যান ও চূড়ান্ত ব্যাখ্যাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই সমতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আলজাজিরা জানায়, বোর্ড অব পিস স্থায়ী সদস্য হতে দেশগুলোর কাছে এক বিলিয়ন ডলার করে দাবি করেছে। এ কারণে এটিকে জাতিসংঘের একটি ‘পে-টু-প্লে’ সংস্করণ বলেও সমালোচনা করা হচ্ছে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ডটির প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগের দিন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠক নির্ধারিত।
গত মাসে ট্রাম্প প্রায় ৬০টি দেশকে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। বোর্ডটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২৬টি দেশের নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে গাজা ইস্যুতে মধ্যস্থতাকারী কাতার ও মিসরও রয়েছে।


0 coment rios: