বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ১৭ বছর আজ

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’। ২০০৯ সালের এই দিনে ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞে তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নির্মমভাবে নিহত হন। তার স্ত্রীসহ আরও কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারান। পরদিনও হত্যাকাণ্ড চলতে থাকে।

এত বছর পরও ঘটনার প্রকৃত পরিকল্পনাকারীরা সম্পূর্ণভাবে বিচারের আওতায় আসেননি—এমন অভিযোগ শহীদ পরিবারগুলোর।

দিবসটি উপলক্ষে আজ সকালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা জানান। গত বছর থেকে দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হচ্ছে। দিনটি শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণ, দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে পালন করা হয়।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ও জড়িতদের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার কমিশনের প্রতিবেদনে নাম থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করলেও তা শেষ করতে পারেনি।

সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পূর্ণাঙ্গভাবে পুনঃতদন্ত করবে অথবা কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি জানান।

৫৭ শহীদ সেনা কর্মকর্তার একজন কর্নেল কুদরত-ই-এলাহীর ছেলে ব্যারিস্টার সাকিব রহমান বলেন, শহীদ পরিবারের অধিকাংশ সদস্যই জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট। তাদের দাবি, বর্তমান সরকার যেন ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই বিচার কার্যক্রম শুরু করে।

জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে পিলখানার হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট। তিনি উল্লেখ করেন, হত্যাযজ্ঞে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন শহীদ হন। ২০০৯ সালের পর দিনটি যথাযোগ্য গুরুত্বে পালিত হয়নি, তবে ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে এটি ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।

তিনি শহীদদের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানান। বিচারাধীন বিষয় হওয়ায় বিস্তারিত মন্তব্যের অবকাশ নেই বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা ছিল—নাগরিক হিসেবে বিষয়টি অনুধাবন করা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন দেশের সম্মান ও গৌরবের প্রতীক। ভবিষ্যতে যাতে কেউ সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।


শেয়ার করুন

Author:

Dhaka71.com একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল। আমরা সবসময় যাচাইকৃত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ। দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য দিয়ে পাঠকের আস্থা অর্জনই আমাদের লক্ষ্য।

0 coment rios: