ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের কোনো বিভাজন ছাড়াই শপথ পড়িয়ে এক ভিন্ন নজির গড়লেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে সংসদের শপথ কক্ষে তিনি এমপিদের শপথবাক্য পাঠ করান। সংবিধানের ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ পরিচালনার দায়িত্ব সিইসির ওপর বর্তায়।
দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী জুলাই আন্দোলনের পর পদত্যাগ করেন এবং ডেপুটি স্পিকার কারাবন্দি থাকায় সংসদ সচিবালয় এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়কে চিঠি দেয়। সংসদ সচিব কানিজ মওলা চিঠিতে উল্লেখ করেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর তিন দিনের মধ্যে শপথ না হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে সিইসিকেই তা সম্পন্ন করতে হবে।
এ প্রেক্ষাপটে সিইসি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। একই অনুষ্ঠানে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার বিষয়টি যুক্ত ছিল।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, এর আগে ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর তৎকালীন সিইসি আব্দুর রউফ পঞ্চম জাতীয় সংসদের সদস্যদের শপথ পড়িয়েছিলেন। তবে তখন বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের রেফারেন্সের ভিত্তিতে হয়েছিল এবং সব দল এককভাবে তার অধীনে শপথ নেয়নি।
সে সময় স্পিকার ছিলেন মো. শামসুল হুদা চৌধুরী। আওয়ামী লীগ তার অধীনে শপথ নিলেও বিএনপি আপত্তি তোলে। পরে সুপ্রিম কোর্টের মতামতের ভিত্তিতে বিএনপির সদস্যরা সিইসির অধীনে শপথ নেন।
এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। গেজেট প্রকাশের সময়সীমা ও শপথ গ্রহণের নির্দিষ্ট বিধান স্পষ্ট থাকায় সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দায়িত্ব পালন করেন সিইসি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোট হয়। শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ভোট স্থগিত রয়েছে। চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফল আইনি জটিলতায় ঘোষণা হয়নি। এছাড়া একাধিক আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেন; সেখানে উপনির্বাচন হবে।
সব মিলিয়ে ২৯৬ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে শপথ পড়ানোর মাধ্যমে বিভেদহীনভাবে দায়িত্ব সম্পন্ন করেন সিইসি। নিবন্ধিত ৬০ দলের মধ্যে ৫০টি দল এবার নির্বাচনে অংশ নেয়; নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ ভোটের বাইরে ছিল।


0 coment rios: