বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র কখনোই টেকসই হবে না। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সামনে রেখে গতকাল বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশ থেকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, তা রোধ করা গেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও বেকার ভাতার মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে অর্থের সংকট থাকবে না। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধার করে সাধারণ মানুষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, বিএনপি একটি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।
প্রশাসন পরিচালনা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কেবল সংবিধান অনুযায়ী চলবে। আমরা এমন রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে শাসকরা নিজেদের মালিক নয়, জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত বছরগুলোতে শাসক শ্রেণি সরকারি পদ-পদবি ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিয়েছে।
ক্ষমতায় গেলে প্রথম দিন থেকেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির লড়াই শুধু ক্ষমতার জন্য নয়; রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের হাত থেকে মুক্ত করে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।
তরুণদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণ ও মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার গঠন করতে পারলে যথাসময়ে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি ড্রপআউট শিক্ষার্থীদের বেকারত্ব রোধে উচ্চবিদ্যালয় পর্যায় থেকেই কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানান তিনি।
ভাষণে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এখন গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ হলেও, একটি পরাজিত চক্র জনগণের কাছ থেকে রাষ্ট্রের মালিকানা ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ৭ নভেম্বরের আন্দোলন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম—ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ে মানুষ জীবন দিয়েছে দেশের জন্য। একটি প্রাণ হারালে একটি পরিবারের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়, যার পূর্ণ প্রতিদান কখনো সম্ভব নয়। তবে জীবিতদের দায়িত্ব শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
তারেক রহমান বলেন, নাগরিকদের হারানো রাজনৈতিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একটি বড় সুযোগ। একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে দেশবাসীর সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন তিনি।


0 coment rios: