পাকিস্তান থেকে ওষুধ আমদানি বন্ধ করার পর বাংলাদেশ থেকে ওষুধ কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আফগানিস্তান। চলতি মাস থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় দেশটিতে ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এর আগে জানুয়ারিতে তালেবান সরকারের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে। সফরকালে আফগানিস্তানের শিল্প ও বাণিজ্য উপমন্ত্রী আহমাদুল্লাহ জাহিদ বাংলাদেশকে সরাসরি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাহী উড়োজাহাজ চালুর প্রস্তাবও দেন।
প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা এবং নিজস্ব ওষুধবাজার পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে পাকিস্তান থেকে আমদানি বন্ধ করে তালেবান সরকার। এতে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের জন্য বড় রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতদিন আফগানিস্তানের অর্ধেকের বেশি ওষুধের চাহিদা পূরণ হতো পাকিস্তান থেকে। আমদানি বন্ধ হওয়ার পর ইরান, ভারত, বাংলাদেশ, উজবেকিস্তান, তুরস্ক, চীন ও বেলারুশ থেকে ওষুধ কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে আফগান প্রশাসন।
বর্তমানে বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধ বিশ্বের ১৬০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হয়। আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, পাকিস্তান থেকে আমদানি করা অনেক ওষুধই ভেজাল ও নকল ছিল। সে তুলনায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বাংলাদেশের ওষুধ গুণগত মান ও তুলনামূলক কম দামের কারণে আফগান বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আফগান প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরের সময় দেশের শীর্ষ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করে। যৌথ বিনিয়োগ ও কারখানা স্থাপনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
যদিও আফগানিস্তানে স্থানীয়ভাবে ওষুধ উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে, তবুও কাঁচামাল আমদানি, বিদ্যুতের উচ্চ ব্যয় ও সীমিত অবকাঠামোর কারণে দেশটি এখনো পুরোপুরি স্বনির্ভর হতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।


0 coment rios: