বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা নিয়ে রাশিয়া-চীনের তীব্র প্রতিক্রিয়া


ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার কড়া সমালোচনা করেছে রাশিয়া ও চীন। মস্কোর দাবি, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে—এমন কোনো প্রমাণ তারা দেখেনি। আর বেইজিং অবিলম্বে যৌথ সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই মঙ্গলবার ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার-কে ফোনে জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল। তার ভাষায়, সেখানে ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগও সমাধানের পথে ছিল।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এই প্রক্রিয়া সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ওয়াং ই স্পষ্টভাবে বলেন, চীন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক হামলার বিরোধিতা করে। সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শক্তি প্রয়োগে প্রকৃত সমস্যার সমাধান হয় না; বরং তা নতুন সংকট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি ডেকে আনে। একই সঙ্গে ইরানে অবস্থানরত চীনা নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধে সম্মতি জানিয়েছেন গিদেওন সার।

এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সতর্ক করে বলেছেন, এই যুদ্ধ উল্টো সেই ফল বয়ে আনতে পারে, যা ঠেকাতেই অভিযান শুরু হয়েছে—অর্থাৎ পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড ইরানে এমন শক্তির উত্থান ঘটাতে পারে, যারা পারমাণবিক বোমা অর্জনের পথেই হাঁটবে।

ল্যাভরভের মন্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলোকে আক্রমণ করে না—এ ধারণা থেকেই অন্য দেশগুলোও অস্ত্র অর্জনের প্রতিযোগিতায় নামতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত ইসরায়েল—যদিও দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনোটিই করে না।

মঙ্গলবার ল্যাভরভ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি-র সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি জানান, কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে মস্কো প্রস্তুত রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অকারণ সামরিক আগ্রাসন প্রত্যাখ্যান করে।

এর আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই হামলাকে একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত সশস্ত্র আগ্রাসন বলে আখ্যা দেয়। মস্কোর অভিযোগ, তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের আলোচনার আড়ালে প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল শাসন পরিবর্তন।

রাশিয়ার সতর্কবার্তায় বলা হয়, এই সামরিক পদক্ষেপ অঞ্চলটিকে মানবিক, অর্থনৈতিক এবং সম্ভাব্য তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়ের দিকেও ঠেলে দিতে পারে। পাশাপাশি অপ্রত্যাশিত শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া ও সহিংসতার ঘূর্ণাবর্তের ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়।

সূত্র: আল জাজিরা


শেয়ার করুন

Author:

Dhaka71.com একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল। আমরা সবসময় যাচাইকৃত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ। দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য দিয়ে পাঠকের আস্থা অর্জনই আমাদের লক্ষ্য।

0 coment rios: