Global Header Bottom
তিন জেলায় ফের শান্তির হাওয়া: সিরাজগঞ্জে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন ৬৫ চরমপন্থি পুনর্বাসনের আশ্বাস প্রশাসনের

তিন জেলায় ফের শান্তির হাওয়া: সিরাজগঞ্জে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন ৬৫ চরমপন্থি পুনর্বাসনের আশ্বাস প্রশাসনের

তিন জেলায় ফের শান্তির হাওয়া: সিরাজগঞ্জে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন ৬৫ চরমপন্থি পুনর্বাসনের আশ্বাস প্রশাসনের

একসময় উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের যে জনপদে দিন-দুপুরে চলত অস্ত্র উঁচিয়ে মহড়া, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াল তাণ্ডব—সেই সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলায় বইছে শান্তির হাওয়া। আতঙ্কের জনপদ ছেড়ে এবার আইনের প্রতি শ্রদ্ধা ও পরিবারের প্রতি মমত্ববোধ থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে যাচ্ছেন চরমপন্থি ও সর্বহারা দলের আরও ৭০ জন সদস্য।

আজ রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১২-এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন এই চরমপন্থিরা।

এসআরবি মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিস ফারজানা শারমীনের হাতে অস্ত্র জমা দেন আত্মসমর্পণকারী সর্বহারা সদস্যরা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসআরবির মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ। এ ছাড়াও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এসআরবি-১২-এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আতিকুর রহমান মিয়া এই বিষয়ে জানান, সিরাজগঞ্জ জেলার ৭ জন পাবনা জেলার ১৩ জন রাজবাড়ী ৪৫ জন —এই তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থি অপরাধের অন্ধকার পথ ছেড়ে আলোর পথে ফিরে এসেছেন। তারা যাতে নিজেদের ও পরিবারের জীবনযাত্রা সচল রাখতে পারেন এবং সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, সিরাজগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে চরমপন্থিদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের কাছে শীর্ষ নেতাসহ শতাধিক চরমপন্থি সদস্য প্রথম আত্মসমর্পণ করেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় ৫৯৬ জন এবং ২০২৩ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জে তৎকালীন র‌্যাব-১২ কার্যালয়ে সাত জেলার আরও ৩২৩ জন চরমপন্থি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোর পথে ফিরে আসেন।

ধারাবাহিক এই আত্মসমর্পণের মাধ্যমে একসময়ের রক্তক্ষয়ী ও আতঙ্কের জনপদগুলো এখন চরমপন্থিমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক ও শান্ত পরিবেশ লাভ করছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

শেয়ার করুন:

এই ক্যাটাগরির আরও নিবন্ধ

Global Before Footer