শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার–এ ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারের বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। পরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে এবং দলীয়ভাবেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে আবারও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে শহীদ মিনারে অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পর তিন বাহিনীর প্রধানরাও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদনকে ঘিরে পুরো শহীদ মিনার এলাকা কঠোর নিরাপত্তায় আচ্ছাদিত ছিল। অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে দুপুর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাধারণের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। সেই আন্দোলনের চেতনা থেকেই ১৯৭১ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।
মধ্যরাতের আগেই অসংখ্য মানুষ ফুল হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অপেক্ষায় ছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করেন।
একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আর কেবল বাংলাদেশের দিন নয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ফলে বাঙালির ভাষা আন্দোলনের এই দিনটি বিশ্বজুড়ে মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছে।


0 coment rios: