ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশু ফারদিন: জীবনের সাথে লড়াই করা এক মায়ের নির্মম বাস্তবতার গল্প : পাশে দাঁড়ানোর আকুতি
চোখের মণি সন্তানের জীবন বাঁচাতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এক অসহায় মা। একদিকে মরণব্যাধি ক্যান্সার কেড়ে নিচ্ছে তার আদরের ৮ বছর ৫ মাস বয়সী একমাত্র সন্তান মোঃআবরার ফারদিনের জীবন, অন্যদিকে স্বামীর নির্মম প্রতারণা ও দায়িত্বহীনতা তাকে ঠেলে দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তার মুখে। বর্তমানে ভারতে চিকিৎসার পর দেশে ফিরেও অভাব আর আইনি লড়াইয়ের গ্যাঁড়াকলে দিশেহারা এই মা।
ক্যান্সারের থাবা ও ফারদিনের লড়াই
মাত্র ২ বছর বয়স থেকেই ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশু আবরার ফারদিন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর কিছুটা সুস্থ হলেও সম্প্রতি তার ক্যান্সার আবার ফিরে এসেছে (Replase) । বর্তমানে তার শরীরে জটিলতা দেখা দেওয়ায় চিকিৎসকরা অবিলম্বে বড় ধরনের অপারেশন ও উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন। ভারতের সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। কিন্তু এই ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তার পরিবার।
স্বামীর প্রতারণা ও সহায় সম্বলহীন
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির মা শাপলা খাতুন স্বর্ণা জানান তার জীবনের করুণ চিত্র। বাবার বাড়ির সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে এবং ৮ লক্ষ টাকা খরচ করে সিরাজগঞ্জ শহরে স্বামীর নামে কাপড়ের দোকান ও ব্যবসা করে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিপদের দিনে স্ত্রীর পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে স্বামী তাকে ও অসুস্থ সন্তানকে ফেলে অন্যত্র চলে যান এবং আরেকটি বিয়ে করেন।
শাপলা খাতুনের অভিযোগ "সন্তানের এই ব্যয় বহুল মরণ ব্যাধির খরচ চালানোর খরচ বহন করতে হবে বলেই সে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। আক্ষেপ করে তিনি আরও বলেন কোন পাষন্ড পিতা ছাড়া সন্তানের অসুস্থতার কথা শুনে পালিয়ে যেয়ে শুধু নিজের সুখের সন্ধানে আরেকটি বিয়ে করতে পারেনা। তিনি আরও জানান, আমার নিজের কোনো বাড়ি নেই, বাবা-মা দুজনেই মারা গেছেন। বাবা-মার দেওয়া সব সম্পত্তি বিক্রি করে তাকে (স্বামীঃ গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শহরগাছীর শাকাহার গ্রামের এলজিইডির প্রাক্তন হিসাব রক্ষক হেলাল সরকারের ছেলে মোঃ লিমন মিয়া ) সব দিয়েছিলাম, প্রেমের বিয়ে হওয়ায় তাকে নিয়ে সুখের সংসার করার স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়া। কিন্তু শুধুমাত্র ছেলের মরণ ব্যধির কথা শুনে আজ সে অন্য নারীর সাথে ঘর বেঁধেছে। চিকিৎসা তো দূরের কথা ভরণ পোষণও না দেয়ায় নিরুপায় হয়ে আমি আদালতের শরনাপন্ন হয়েছি।এখন আমি বাচ্চার চিকিৎসা করাব, নাকি মামলার খরচ চালাব?"
চরম মানবেতর জীবনযাপন
বর্তমানে সিরাজগঞ্জ শহরের এসএস রোডে পরিচিত এক ব্যক্তির দয়ায় একটি ঘরে কোনোমতে ঠাঁই হয়েছে মা ও ছেলের। নিজের কোনো স্থায়ী ঠিকানা বা আয়ের উৎস না থাকায় ভাড়া বাসায় থাকা মামলার খরচ চালানো এবং সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় মেটানো তো দূরের কথা, দুবেলা খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে শাপলা খাতুনের। ফারদিনের দাদা-দাদি বা অন্য কোনো আত্মীয় স্বজনও এই বিপদের দিনে তাদের খোঁজ নিচ্ছেন না। ফলে নাবালক সন্তানের ছলছল চোখ আর নিভু নিভু শরীরের দিকে তাকিয়ে মৃত্যুর প্রহর গোনা ছাড়া যেন মায়ের চোখের সামনে আর কোন পথ খোলা নেই।
সহযোগিতার আকুতি
তহবিল ও সহায়তার অভাবে যেকোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে ছোট্ট ফারদিনের জীবন প্রদীপ। সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষের একটু সহযোগিতা বাঁচাতে পারে নিষ্পাপ শিশু ফারদিন। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে স্বপ্ন বুনতে পাড়ে মা শাপলা খাতুন।