Global Header Bottom
যমুনার ভাঙনে নিঃস্ব সিরাজগঞ্জের চরবাসী, অস্থায়ী প্রতিরোধে মিলছে না সমাধান

যমুনার ভাঙনে নিঃস্ব সিরাজগঞ্জের চরবাসী, অস্থায়ী প্রতিরোধে মিলছে না সমাধান

যমুনার ভাঙনে নিঃস্ব সিরাজগঞ্জের চরবাসী, অস্থায়ী প্রতিরোধে মিলছে না সমাধান

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের কুরসি ও ধীতপুরসহ যমুনার চরাঞ্চলে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। গত দুই সপ্তাহে কুরসি ও ধীতপুর গ্রামের দুই শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, গত তিন মাসে আশপাশের শ্রীপুর, বারপাখিয়া, গালা ইউনিয়নের মোহনপুর ও হাতকোড়া এলাকাসহ প্রায় দুই হাজার বিঘা আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে।

ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার এখন পলিথিনের ছাউনি কিংবা জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থায়ী তীররক্ষা প্রকল্প না থাকায় ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙনরোধে এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কোনো স্থায়ী তীররক্ষা প্রকল্প নেই। জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর অনুরোধে পাউবো মাঝেমধ্যে জিওটেক্সটাইল বস্তায় বালু ভরে ডাম্পিংসহ অস্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়। তবে যমুনার তীব্র স্রোতের কাছে এসব উদ্যোগ বেশিদিন টিকছে না।

বৃহস্পতিবার কুরসিবাজার এলাকায় নদীভাঙনকবলিত পাড়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এ সময় তারা দ্রুত স্থায়ী তীররক্ষা প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানান।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, অন্তত ১০ থেকে ১২টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বাঁশের চটকা তৈরি করে বালুভর্তি জিওটেক্সটাইল বস্তা ডাম্পিং করা হলে ভাঙন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।

ধীতপুর গ্রামের আছিয়া খাতুন বলেন, “বাড়ি নদীতে চলে গেছে। শূন্য ভিটায় পলিথিন টানিয়ে আছি। বৃষ্টি এলে সব ভিজে যায়। ছেলে-মেয়ে নিয়ে কোথায় যাব, জানি না।”

আমেনা খাতুন নামে আরেক নারী শিশুকন্যাকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন একটি পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ ঘরে। পচে যাওয়া বেড়া ও নুয়ে পড়া চালের নিচেই কাটছে তাঁর দিন।

তিনি বলেন, “যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। সরকারি এক কেজি চাল পেয়ে কোনোভাবে দিন চলছে।”

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন বলেন, “ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের চাল ও শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।”

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, “সোনাতনী চরাঞ্চল হওয়ায় এখানে বর্তমানে কোনো তীররক্ষা প্রকল্প নেই। স্থানীয়দের অনুরোধে অস্থায়ীভাবে ভাঙনরোধে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “ওই অঞ্চলে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনায় রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে চরবাসীর দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।”

তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী তীররক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নতুন করে ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারানোর ঝুঁকি থেকেই যাবে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে নদীভাঙনকবলিত পরিবারগুলোর বসতভিটা, কৃষিজমি ও জীবন-জীবিকা রক্ষার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শেয়ার করুন:

এই ক্যাটাগরির আরও নিবন্ধ

Global Before Footer