দুবলার চরে সাগরে নিখোঁজ পর্যটক, দ্বিতীয় দিনেও মেলেনি সন্ধান
সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোরকোল সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া পর্যটক মো. রিয়াজ আহমেদের (২৮) সন্ধান দ্বিতীয় দিনেও মেলেনি। তাঁকে উদ্ধারে শনিবার (৭ নভেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মতো সাগর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগ। তবে অভিযান অব্যাহত থাকলেও দুপুর পর্যন্ত তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ রিয়াজ আহমেদ ময়মনসিংহের ভালুকা পৌরসভার কাঠালী পশ্চিমপাড়ার আবুল বাষার ঢালীর ছেলে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘সুন্দরবন ইকোট্যুরিজম-২’ নামের একটি কাঠের তৈরি পর্যটকবাহী ছোট লঞ্চে করে ১৯ জনের একটি দল সুন্দরবনে ভ্রমণে আসে। গত ৫ নভেম্বর সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলী স্টেশন থেকে তিন দিনের অনুমতিপত্র নিয়ে মান্দারবাড়ী নৌপথ দিয়ে তারা সুন্দরবনে প্রবেশ করে।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে পর্যটকবাহী লঞ্চটি দুবলার চরের আলোরকোলে পৌঁছায়। পরে পর্যটকেরা ট্রলারে করে চরে নামেন। একপর্যায়ে রিয়াজসহ কয়েকজন সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নামেন। এ সময় সাগরের প্রবল ঢেউ ও স্রোতের টানে রিয়াজ তলিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।
ঘটনার পরপরই আলোরকোল শুঁটকি পল্লির জেলেরা ট্রলার নিয়ে সাগরে তল্লাশি শুরু করেন। পরে কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। তবে রাতের অন্ধকার ও সাগরের উত্তাল পরিস্থিতির কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হয়।
আলোরকোল শুঁটকি পল্লির রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী ও সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির শেখ জানান, পর্যটকবাহী লঞ্চ থেকে ট্রলারে করে পর্যটকেরা চরে নামেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে সাঁতার কাটছিলেন। একপর্যায়ে ঢেউয়ের তোড়ে তাঁদের একজন তলিয়ে যান। বিষয়টি দেখতে পেয়ে জেলেরা দ্রুত ট্রলার নিয়ে তল্লাশি শুরু করেন। কিন্তু তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. আবুল কাশেম জানান, পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই কোস্ট গার্ডের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তাঁকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দুবলা জেলে পল্লী টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান শনিবার দুপুর ১টায় জানান, নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধানে কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি বন বিভাগের সদস্যরাও বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি ও টহল চালাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।