সিরাজগঞ্জে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে একদিনেই ভুয়া ওয়ারিশান সনদ!
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নে এক জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে একদিনের ব্যবধানে ভুয়া ওয়ারিশান সনদ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুদুর রহমান মাসুদের বিরুদ্ধে। খাসজমি ও মূল্যবান সম্পত্তি আত্মসাতের অসৎ উদ্দেশ্যে এই ভয়াবহ জালিয়াতি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, খাসেম আলী মল্লিক (খাদেম আলী মণ্ডল) নামের এক ব্যক্তি এখনো জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাকে মৃত দেখিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রে পিতার নাম পরিবর্তন এবং বিতর্কিত ওয়ারিশান সনদ তৈরি করা হয়। গত ১১ সেপ্টেম্বর ওই ব্যক্তি মারা গেছেন—এমন ডাহা মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য দিয়ে শিয়ালকোল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাত্র একদিনের মধ্যেই ওয়ারিশান সনদটি সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে এই অবৈধ সনদের ভিত্তিতে কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল ও লাহেড়ী বাড়ি মৌজাসহ বিভিন্ন এলাকার বিরোধপূর্ণ জমির নামজারি বা খারিজ করার পাঁয়তারা চালানো হয়।
তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, ইউপি সদস্য কর্তৃক ইস্যু করা সনদে খাসেম আলীর মৃত্যুর তারিখ দেখানো হয়েছে ১ মে ১৯৮৪। অথচ এর প্রায় ৭ বছর পর ১৭ জানুয়ারি ১৯৯১ সালের একটি রেজিস্ট্রি দলিলে খাসেম আলীর নিজ হাতের টিপসহি পাওয়া গেছে। মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর কীভাবে একজন মৃত ব্যক্তি দলিলে টিপসই দিলেন—তা নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র প্রশ্ন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত খাদেম আলী মণ্ডল মূলত নিঃসন্তান ছিলেন। তার মৃত্যুর পর তার একমাত্র ভাই আবেদ আলী মণ্ডলের উত্তরাধিকারী ও সন্তানেরা ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের ঝাপটি গ্রামের রহমত আলী মণ্ডল ও তার ছেলে নজরুল ইসলাম/জহুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন আগে জালিয়াতির মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রে পিতার নাম পরিবর্তন করে খাদেম আলী মণ্ডলকে নিজেদের বাবা বানিয়ে নেন। এরপর চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর শিয়ালকোল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই রহস্যজনক সনদ হাতিয়ে নেন তারা।
এই ন্যাক্কারজনক জালিয়াতির বিরুদ্ধে খাসেম আলীর বেয়াই আব্দুল হালিম ও মেয়ে আমিনা বেগমসহ স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবার তীব্র ক্ষোভ ও আপত্তি জানিয়েছেন। আব্দুল হালিমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কামারখন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া ওয়ারিশান সনদটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর প্রাথমিক তদন্তেও অভিযুক্তদের দাখিল করা কাগজপত্রে গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। সম্পত্তির নামজারি নিয়ে সালিশি বৈঠকে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মাসুদুর রহমান মাসুদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, ভোটার আইডি কার্ড দেখে এবং ভুলবশত তিনি ওই সনদে স্বাক্ষর করেছেন।
অন্যদিকে, শিয়ালকোল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) নাজমুল হুদা জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে জালিয়াতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জীবিত ব্যক্তিকে মৃত বানিয়ে জমি আত্মসাতের এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
Dhaka71/এম নূরে এলাহী