Global Header Bottom
প্রেম-বিয়ের ফাঁদে বিদেশে নারী পাচার, চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার

প্রেম-বিয়ের ফাঁদে বিদেশে নারী পাচার, চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৬

প্রেম-বিয়ের ফাঁদে বিদেশে নারী পাচার, চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৬

প্রেম ও বিয়ের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি নারীদের বিদেশে পাচারের অভিযোগ বাড়ছে। বিশেষ করে চীনা নাগরিকদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে নারীদের চীনে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় গত কয়েক মাসে ছয় চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার হয়েছেন। পাশাপাশি ভালো চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়া, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশেও নারী পাচারের ঘটনা সামনে এসেছে।

অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে প্রথমে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। পরে প্রেম, বিয়ে কিংবা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বিদেশে নেওয়া হয়। বিদেশে পৌঁছানোর পর অনেক নারীকে নির্যাতন, শোষণ ও বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে।

ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে নির্যাতন, শোষণ ও প্রতারণার শিকার হয়ে প্রায় ৭০ হাজার নারী কর্মী বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। একই সময়ে প্রায় ৮০০ নারী কর্মীর মরদেহও দেশে ফিরেছে।

২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্যান গোউয়ে ও ইয়াং জিকু নামে দুই চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, রানী আক্তার ও মালিনা মারাক নামে দুই নারীকে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্কের মাধ্যমে চীনে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তারা। বিমানবন্দরে ওই দুই নারী চীনে যেতে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে।

এরপর ২০২৫ সালের ২৮ মে একই ধরনের অভিযোগে হু জানজুন ও জিয়াং লিজি নামে আরও দুই চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদেশি নাগরিকরা স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার নারীদের সঙ্গে পরিচিত হন। কয়েক মাস যোগাযোগের পর তারা বাংলাদেশে এসে ওই নারীদের পরিবারের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেন। পরে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্কের মাধ্যমে তাদের বিদেশে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে নেওয়ার পর এসব নারীকে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

সম্প্রতি কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরে এক নারী বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মাসে এক লাখ টাকা বেতনে কাস্টমার কেয়ারে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। এ ঘটনায় রাজবাড়ীর মো. রুবেল, ফরিদপুরের আনিসুর রহমান ও গাজীপুরের বেলাল হোসেনের নাম এসেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিদেশে পাঠানোর কথা বলে ওই নারীর কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা নেওয়া হয়। কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর তার পাসপোর্ট ও ডলার নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেখানে তাকে নির্যাতন ও বিভিন্ন অনৈতিক কাজে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সহায়তায় দেশে ফেরেন।

প্রায় একইভাবে সৌদি আরবেও চাকরির প্রলোভনে গিয়ে এক নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাকে আটকে রেখে মারধর, খাবার না দেওয়া ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান বলেন, বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য যাচাই করা জরুরি। বিদেশে নির্যাতনের শিকার নারীদের দ্রুত আইনি ও কূটনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, প্রেম, বিয়ে কিংবা চাকরির প্রলোভনে নারী পাচার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, দূতাবাস ও অভিবাসন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিদেশ যাওয়ার আগে ভিসা, নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকের পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়ে নারীদের সচেতন করাও জরুরি।

শেয়ার করুন:

এই ক্যাটাগরির আরও নিবন্ধ

Global Before Footer