Global Header Bottom
রায়গঞ্জের পাঙ্গাসীতে দেড় কিলোমিটারের ‘মরণফাঁদ’, চরম দুর্ভোগে পথচারীরা

রায়গঞ্জের পাঙ্গাসীতে দেড় কিলোমিটারের ‘মরণফাঁদ’, চরম দুর্ভোগে পথচারীরা

রায়গঞ্জের পাঙ্গাসীতে দেড় কিলোমিটারের ‘মরণফাঁদ’, চরম দুর্ভোগে পথচারীরা

দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সিরাজগঞ্জ-বগুড়া পুরাতন মহাসড়কের রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী অংশ এখন যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। হাট পাঙ্গাসী বাজার থেকে ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী, চালক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এ অংশের ইট-কার্পেটিং উঠে গিয়ে কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও কাদাপানিতে একাকার হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি আর বর্ষায় হাঁটুসমান কাদাপানির কারণে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ২০ বছর ধরে সড়কটির কোনো টেকসই সংস্কার হয়নি। প্রায় ১২-১৩ বছর আগে কার্পেটিং উঠে যাওয়ার পর এইচবিবি (হেরিং বোন বন্ড) দিয়ে সংস্কার করা হলেও ৭-৮ বছর আগেই সেটিও নষ্ট হয়ে যায়।

সড়কটি রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ, থানা, হাসপাতাল, গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজার ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রসূতি ও সংকটাপন্ন রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বাস, ট্রাক, অটোরিকশা ও ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রায়ই খানাখন্দে আটকে যাচ্ছে। এতে যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। সম্প্রতি বৃষ্টির মধ্যে একটি অটোভ্যান উল্টে অসুস্থ যাত্রীরা দুর্ঘটনার শিকার হন বলেও জানান তারা।

শিক্ষার্থীরাও পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। কাদাপানি ও ধুলাবালিতে তাদের পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি।

স্থানীয় প্রবীণদের অভিযোগ, নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিরা সড়কটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচনের পর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখা যায় না।

সড়কের দুরবস্থা নিরসনের দাবিতে এলাকাবাসী একাধিকবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করলেও দীর্ঘদিনেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।

তবে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ অবসানে আশার কথা জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল জানান, প্রায় দেড় বছর আগে মহাসড়কটির সম্প্রসারণ ও পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। সম্প্রতি প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে প্রকল্পটির দরপত্র আহ্বান করা হবে। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসন করা সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন:

এই ক্যাটাগরির আরও নিবন্ধ

Global Before Footer