Global Header Bottom
সরকারি সহায়তার প্রলোভনে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ছাত্রদল নেতা ও তাঁর বোনের বিরুদ্ধে

সরকারি সহায়তার প্রলোভনে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ছাত্রদল নেতা ও তাঁর বোনের বিরুদ্ধে

সরকারি সহায়তার প্রলোভনে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ছাত্রদল নেতা ও তাঁর বোনের বিরুদ্ধে

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার নদীভাঙন ও একডালা পুনর্বাসন এলাকার দুই শতাধিক অসহায় ও দুস্থ নারীর কাছ থেকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রদলের এক নেতা ও তাঁর বোনের বিরুদ্ধে। টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুত কোনো সুবিধা না দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। একই দাবিতে কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মানববন্ধনও করেছেন তারা।

অভিযুক্তরা হলেন সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের ৭ নম্বর সহ-সভাপতি মো. আবদুল আলিম (৪০) এবং তাঁর বোন মোছা. ফরিদা বেগম (৪৫)।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড, গর্ভবতী ভাতা, বিধবা ভাতা, সরকারি ঘর, গরু-ছাগল ও বিভিন্ন সরকারি অনুদান দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এভাবে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভুক্তভোগী নারীদের পক্ষে মোছা. জোসনা বেগম সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের সঙ্গে ৭৬ জন ভুক্তভোগীর স্বাক্ষরসংবলিত তিন পাতার একটি তালিকাও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগকারী জোসনা বেগম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, গর্ভবতী ভাতার কার্ড ও সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে ফরিদা বেগম ও তাঁর ভাই আবদুল আলিম এলাকার অনেক নারীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। এক বছর আগে টাকা দেওয়ার পরও কোনো সুবিধা না পাওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এক ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, গর্ভবতী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। সাত দিনের মধ্যে মোবাইল ফোনে ভাতার টাকা আসবে বলা হলেও এখন পর্যন্ত তিনি কোনো টাকা পাননি।

আরেক নারী অভিযোগ করেন, ৭০ হাজার টাকা অনুদান ও গরু কেনার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো অনুদান পাননি তিনি। টাকা ফেরত চাইতে গেলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন ওই নারী।

অন্য এক বয়স্ক নারী অভিযোগ করেন, সমিতির কথা বলে প্রথমে ২০ টাকা এবং পরে বিভিন্ন সময়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা করে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। পরে টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘদিন পার হলেও প্রতিশ্রুত সরকারি সুবিধা না পাওয়ায় তারা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগে আবদুল আলিম ও ফরিদা বেগমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের টাকা উদ্ধারের দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুল আলিম ও ফরিদা বেগমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার নামে যাতে কেউ প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

শেয়ার করুন:

এই ক্যাটাগরির আরও নিবন্ধ

Global Before Footer