সিরাজগঞ্জে ৫০ বছরের পুরোনো রাস্তা কেটে দখলের অভিযোগ, নির্মাণকাজ বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়াহরিপুর ও কামারখন্দ উপজেলার ঝাউল ইউনিয়নের সংযোগকারী প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো একটি সড়ক কেটে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সড়কটির সংস্কার ও হেরিংবোন বন্ড (ইটের সোলিং) কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সড়কটি কেটে চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং নির্মাণকাজে অনিয়মের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে কামারখন্দ উপজেলার ঝাউল ইউনিয়নের মাহমুদাকোলা উত্তরপাড়া এলাকায় মানববন্ধন করেছেন কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। এ সময় সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে স্থায়ীভাবে পাকা করা এবং চলাচলের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কালিয়াহরিপুর, তেঁতুলিয়া, চুনিয়াহাটি, মাহমুদাকোলা, তেঘুরি, সরকারপাড়া ও কান্দাপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জন্য সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে জেলা শহরে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সড়কটি সিরাজগঞ্জ সদর থেকে কামারখন্দ, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর উপজেলার প্রধান সড়কের সঙ্গেও সংযুক্ত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন পর সরকারি অর্থায়নে সড়কটিতে মাটি ভরাট ও হেরিংবোন সোলিংয়ের কাজ শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই বিরোধের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় মোতালেব নামে এক ব্যক্তি সড়কের একটি অংশকে তাঁর শ্বশুরের ব্যক্তিগত জমি দাবি করে রাতের আঁধারে কেটে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
তবে ওই জমির মালিকানা নিয়ে প্রকৃত তথ্য ও সড়কের সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে সড়কের যে অংশে নির্মাণকাজ হয়েছে, সেখানে নিম্নমানের কাজের কারণে এক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। এতে সড়কটির ওই অংশ বর্তমানে চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কালিয়াহরিপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবু ইসলাম। তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে এই সড়ক দিয়ে মানুষ চলাচল করে আসছেন। অতীতে একাধিকবার সরকারি উদ্যোগে সড়কটিতে মাটির কাজ হয়েছে এবং সেখানে প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো একটি কালভার্টও রয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত একটি সড়ক হঠাৎ করে ব্যক্তিগত জমি দাবি করে কেটে ফেলা হলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা মো. আব্দুল আলীম, মো. সোনাউল্লাহ সোনো, স্থানীয় বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. আক্তার হোসেন, শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম, মো. আলী আকবর, মো. সুরুজ্জামান, মো. স্বপন সেখ, রূপালী বেগম, চায়না বেগম, শিক্ষার্থী মুনিয়া আকতার, নুরজাহান বেগমসহ স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের প্রায় ২০০ ফুট অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ও বন্ধ থাকায় প্রতিদিন সিএনজি, অটোরিকশা ও পথচারীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা কাদামাটি ও ভাঙা অংশ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার পাশাপাশি বিরোধের স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান তিনি।
এলাকাবাসী জানান, সড়কটির চলাচলের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নির্মাণকাজের মান যাচাই এবং বিতর্কিত জমির সীমানা নির্ধারণের দাবিতে তারা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তাদের দাবি, সরকারি প্রকল্পের আওতায় অনুমোদিত সড়কটির নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে সড়ক কাটার অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা ও সীমানা নির্ধারণ এবং নিম্নমানের নির্মাণকাজ হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বা অভিযুক্ত মোতালেবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।