Global Header Bottom
খ্যাতি ক্ষণস্থায়ী, মানুষের ভালোবাসাই চিরস্থায়ী: ববিতা

খ্যাতি ক্ষণস্থায়ী, মানুষের ভালোবাসাই চিরস্থায়ী: ববিতা

খ্যাতি ক্ষণস্থায়ী, মানুষের ভালোবাসাই চিরস্থায়ী: ববিতা

গুলশান-২-এর লেকপাড়ের নীরব বিকেল। বারান্দা থেকে দেখা যায় লেকের ওপর উড়ে বেড়ানো পাখির দল। দরজা খুলতেই অভ্যর্থনা জানায় একটি টিয়া ও একটি ময়না। হঠাৎ করেই ময়নাটি মানুষের হাসি নকল করে হেসে ওঠে। পাশে দাঁড়িয়ে অভিনেত্রী ববিতা মুচকি হেসে বলেন, “ও আমার হাসিটা নকল করে।”

বসার ঘরে ঢুকলেই মনে হয়, এটি যেন কোনো সাধারণ অ্যাপার্টমেন্ট নয়; বরং শহরের কোলাহলের মাঝখানে এক টুকরো সবুজ আশ্রয়। দেয়ালজুড়ে লতানো গাছ, ছোট্ট ফোয়ারায় শাপলা, পাশে নাইটকুইন, ক্যাকটাস, গোলাপ, রজনীগন্ধা ও বাগানবিলাস—সব মিলিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে গভীর মিতালির এক অনন্য পরিবেশ।

প্রায় ছয় দশকের অভিনয়জীবনে তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই অভিনেত্রী এখন অভিনয়ের চেয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যেই বেশি সময় কাটান।

অভিনয়ে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ববিতা বলেন, “অভিনয়ের ব্যাপারে আমি এখন তেমন আগ্রহী নই। যে ধরনের চরিত্রে আমাকে অভিনয়ের জন্য বলা হয়, তা করতে চাই না। গল্প আর চরিত্র—দুটোই শক্তিশালী হতে হবে। এখন সেরকম কাজ পাচ্ছি না বলেই অভিনয় করছি না।”

অভিনয়ের বাইরে গাছই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় ভালোবাসা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে নানা প্রজাতির গাছ সংগ্রহ করে নিজ হাতে বছরের পর বছর পরিচর্যা করেছেন তিনি।

ববিতা বলেন, “গাছের প্রতি আমার ভালোবাসা অপরিসীম। গাছ কিনতে ভালো লাগে, কেউ উপহার দিলে আরও ভালো লাগে। প্রকৃতি শুধু মানুষ নয়, পুরো পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখে। তাই সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। আমরা একদিন থাকব না, কিন্তু গাছগুলো থেকে যাবে।”

গত ৩০ জুলাই ছিল ববিতার জন্মদিন। এবারও তিনি জন্মদিন উদযাপন করেছেন কানাডায়, ছেলে অনিকের সঙ্গে।

তিনি বলেন, “আমি প্রায় প্রতিবছরই জুলাই মাসে ছেলের কাছে কানাডা যাই। এবারও গিয়েছিলাম। ছেলে আমাকে দারুণ সারপ্রাইজ দিয়েছে। রাতে একসঙ্গে ডিনার করেছি। খুব সুন্দর কেটেছে জন্মদিন।”

দেশে জন্মদিনের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “দেশে থাকলে বোনরা আসে, ঘনিষ্ঠ মানুষদের সঙ্গে দেখা হয়, ভক্তরা শুভেচ্ছা জানায়। এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া। অসংখ্য পুরস্কার বা তারকাখ্যাতির চেয়েও মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।”

এরপর কিছুক্ষণ থেমে জীবনের উপলব্ধির কথা জানিয়ে বলেন, “খ্যাতি ক্ষণস্থায়ী, মানুষের ভালোবাসাই চিরস্থায়ী।”

জন্মদিন উপলক্ষে মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ববিতাসমগ্র’। সেখানে তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবনের নানা অজানা গল্প ও স্মৃতিচারণ উঠে এসেছে। অনুষ্ঠানে অংশ নেন রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, আলমগীর, সোহেল রানা, আফজাল হোসেন, শাকিব খান, জয়া আহসান, আনোয়ারা, সুচন্দা, চম্পাসহ দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজন।

এ আয়োজন নিয়ে ববিতা বলেন, “যারা আমাকে ভালোবাসেন, তাদের জন্যই ‘ববিতাসমগ্র’। বিদেশে থেকেও অনুষ্ঠানটি নিয়ে অসংখ্য শুভেচ্ছা ও প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। সত্যিই আমি অভিভূত।”

এবারের জন্মদিনে তাঁকে উৎসর্গ করে ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে ‘আওয়ার ড্রিম গার্ল’ শিরোনামের একটি গান। গানটির কথা লিখেছেন ওমর ফারুক, সুর ও সংগীত করেছেন শান সায়েক।

গানটি নিয়ে আবেগাপ্লুত ববিতা বলেন, “আমাকে নিয়ে জন্মদিনের গান হবে, কখনো ভাবিনি। এটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় উপহার। পুরো টিমের প্রতি আমার আন্তরিক ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।”

কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে গত ২ আগস্ট ‘আনন্দ মেলা’ অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননা গ্রহণ করেন ববিতা।

এই স্বীকৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যে কোনো সম্মাননাই আনন্দের। দেশে রাষ্ট্রীয় সম্মাননাসহ অনেক পুরস্কার পেয়েছি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এই স্বীকৃতি আমাকে ভিন্ন এক আনন্দ ও গর্বে ভরিয়ে দিয়েছে। আমার বিশ্বাস, এটি শুধু আমাকে নয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানিত করেছে।”

আলাপের শেষ দিকে ভক্তদের প্রসঙ্গ উঠতেই আবারও মুখে ফুটে ওঠে সেই পরিচিত হাসি।

ববিতা বলেন, “ভক্তরা আমাকে অনেক ভালোবাসেন। তাদের কারণেই আমি আজকের ববিতা। তাদের ভালোবাসাই আমাকে বাঁচিয়ে রাখবে। আমি চাই, তারা সবাই ভালো থাকুক।”

ট্যাগ: বিনোদন
শেয়ার করুন:

এই ক্যাটাগরির আরও নিবন্ধ

Global Before Footer