Global Header Bottom
সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্ক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল চীনা কোম্পানি

সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্ক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল চীনা কোম্পানি

সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্ক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল চীনা কোম্পানি

সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্কে প্লট বরাদ্দ নিয়ে ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আগ্রহ দেখিয়েও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত থেকে সরে গেছে একটি চীনা কোম্পানি। নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা না পাওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি জমি গ্রহণের আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। শিল্পপার্কের অবকাঠামো নির্মাণে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ, তদারকির ঘাটতি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগও উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্কের প্লট বরাদ্দ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চীনের একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি প্রায় ৮৮ একর জমিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিকে শিল্পপার্কে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায় চীনা কোম্পানিটি শিল্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে গিয়ে জমি গ্রহণের আবেদন প্রত্যাহার করেছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিল্পপার্কের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনো নিচু জমি ও গর্ত রয়েছে। সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজের মান নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় ২০ একর আয়তনের জলাশয় বা পুকুরও যথাযথভাবে সংস্কার না হওয়ায় অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর পার হলেও শিল্পপার্কে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির স্থায়ী সংযোগসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালে শিল্পপার্কের নির্মাণকাজ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠে আসে।

অভিযোগের মধ্যে ছিল পাইলিংয়ে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, নিম্নমানের ইট দিয়ে দেয়াল নির্মাণ এবং নকশা অনুযায়ী ড্রেন নির্মাণ না করা। স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত মাপের তুলনায় ছোট ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিসিক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয়দের পক্ষ থেকে কাজের মান নিয়ে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের বিপরীতে প্রায় ২৭৭ কোটি টাকা বিল পরিশোধ করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট বিসিকের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের দল শিল্পপার্ক এলাকা পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে কাজের বিভিন্ন অনিয়ম ও গাফিলতি উঠে এলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে রাস্তা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান খান ও মজিদ সন্স লিমিটেড নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় প্রায় ২০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে ওই অর্থ এখনো আদায় হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

এ বিষয়ে বিসিকের বর্তমান চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যমুনা সেতুর পশ্চিম পাশে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলী, পশ্চিম মোহনপুর, বনবাড়িয়া, বেলটিয়া ও মোরগ্রাম মৌজার প্রায় ৪০০ একর জমিতে বিসিক শিল্পপার্কটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কয়েক দফা সময় ও ব্যয় বাড়ানোর পর প্রকল্পটির সর্বশেষ ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। শিল্পপার্কে ৮২৯টি প্লটের মধ্যে অন্তত ৫৭০টি প্লটে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, প্লট বরাদ্দে ধীরগতি এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানিসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায় শিল্পপার্কটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, বড় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে দ্রুত অবকাঠামোগত ঘাটতি দূর করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

শেয়ার করুন:

এই ক্যাটাগরির আরও নিবন্ধ

Global Before Footer